সোমালিয়া সংবাদ, আরামবাগ: অক্সিজেন সংকটে পড়েছেন আরামবাগ মহকুমার বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকরা। তাঁরা যেখান থেকে অক্সিজেন নিতেন সেই সংস্থা জানিয়ে দিয়েছে বেসরকারি কোন অ্যাম্বুলেন্স মালিককে তারা অক্সিজেন দিতে পারবে না। এ ব্যাপারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আর এর ফলে চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন আরামবাগ মহকুমার বিভিন্ন হাসপাতাল ও নার্সিংহোমের সঙ্কটজনক রোগীরা। কারণ এই মুহূর্তে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স হাতেগোনা কয়েকটি মাত্র। তাই যখন সংকটজনক কোন রোগীকে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতলে স্থানান্তরিত করতে হয় তখন বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সগুলিই ভরসা। সারা মহাকুমায় এ ধরনের অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা পঞ্চাশের বেশি। শুধুমাত্র আরামবাগ মহকুমা হাসপাতাল চত্বরেই প্রায় ২৫টি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স নিয়মিত পরিষেবা প্রদান করে চলে। এই হাসপাতাল থেকে কখনও কোন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতা বা বর্ধমানে নিয়ে যেতে হলে তারাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই তাদের অ্যাম্বুলেন্সে অক্সিজেন সিলিন্ডার থাকা অত্যন্ত জরুরী। এদিনই আরামবাগ মহকুমা হাসপাতাল চত্বরে দাঁড়িয়ে এক রোগীর আত্মীয় চাঁপাডাঙ্গার বাসিন্দা গৌতম দেবনাথ বলেন, আমার এক আত্মীয়কে এখনই কলকাতায় স্থানান্তরিত করা প্রয়োজন। কিন্তু এই সমস্ত অ্যাম্বুলেন্সে অক্সিজেন নেই। তাই নিয়ে যেতে পারছিনা। ওরা এসডিও বা বিডিওর সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা বলছেন। আমরা এখন রোগীকে বাঁচাবো, না এইসব করব। এক বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক প্রশান্ত দত্ত বলেন, প্রতিদিনের মত এদিনও আমরা চাঁপাডাঙ্গার যে সংস্থার কাছে অক্সিজেন সিলেন্ডার নিই তাদেরকে অক্সিজেন প্রয়োজন বলে জানাই। কিন্তু ওই সংস্থা জানিয়ে দেয় কোন বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সকে আর তারা অক্সিজেন দিতে পারবে না। এ ব্যাপারে নাকি সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এর ফলে আমরা চরম সমস্যায় পড়েছি। অক্সিজেন না থাকায় আমরা অনেক রোগীকে নিয়ে যেতে পারছি না। আমরা বিষয়টি আরামবাগ পুরপ্রশাসক স্বপন নন্দীকে জানিয়েছি। তিনি বিষয়টি দেখার জন্য আশ্বাস দিয়েছেন। আর এক অ্যাম্বুলেন্স চালক প্রবীর হাটী বলেন, আমাদের কাছে এই ব্যবসা অর্থের চেয়েও বড় কথা রোগীদের পরিষেবা দেওয়া। আমরা লাভ পেলাম কিনা সেটা বড় কথা নয়। কিন্তু রোগীদের বিপদের হাত থেকে বাঁচিয়ে সুস্থ করে তুলতে পারলে আমাদের ভীষণ ভালো লাগে। আমরা গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি, অথচ অক্সিজেনের অভাবে রোগীকে নিয়ে যেতে পারছি না এটা অত্যন্ত কষ্টদায়ক। এ ব্যাপারে পুর প্রশাসক স্বপন নন্দী বলেন, বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকরা আমার কাছে এসেছিলেন। তাঁরা জানিয়েছেন তাঁদেরক অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে না। আমি তাঁদেরকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানাতে বলেছি। কিভাবে সমস্যার সমাধান করা যায় তা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব।
![]()

More Stories
ফুরফুরা পঞ্চায়েতে জট কাটল, ৫ বিজয়ীকে শংসাপত্র দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের
সহযোদ্ধার বিদায়, নিভে গেল এক নীরব শক্তির প্রদীপ—প্রয়াত গোঘাটের মনোরঞ্জন পালের স্ত্রী শোভা পাল
ভুলতে বসা সুরের মানুষ— শেষ গান ‘ওগো বন্ধু বিদায়’ আজও ভাসায় চোখের জল”