সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: হুগলি জেলার গোঘাটের আনুড় গ্রামের মানুষ শ্রী ভবানীপ্রসাদ মণ্ডল। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে কংগ্রেস রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এই অভিজ্ঞ নেতা বর্তমানে হুগলি জেলা (২) আরামবাগ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি। সদ্য আমরা তাঁর সঙ্গে মুখোমুখি আলাপচারিতায় বসেছিলাম — আসন্ন ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন, প্রার্থী বাছাই, বামফ্রন্টের সঙ্গে জোট, সংগঠনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে। ভবানীপ্রসাদ মণ্ডলের রাজনীতির সূত্রপাত বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রজীবনে। ১৯৮২ সালে তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ছাত্র রাজনীতির সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে জনসেবার পথে দৃঢ় করে তোলে। পরের বছর, অর্থাৎ ১৯৮৩ সালে, তিনি কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে গোঘাট-২ নম্বর অঞ্চল থেকে জেলা পরিষদের আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। যদিও তখন দলীয় সাফল্য সীমিত ছিল, তবুও ভবানী বাবুর নেতৃত্বের দৃঢ়তা ও সংগঠনের প্রতি নিষ্ঠা তাঁকে দলের ভরসাস্থলে পরিণত করে। ১৯৯৮ সালে এবং তার পরের একাধিক পঞ্চায়েত নির্বাচনে তিনি দলের প্রধান এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন। দলের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা এবং জনসংযোগের দক্ষতা তাঁকে জেলা স্তরে নেতৃত্বের আসনে পৌঁছে দেয়। এরপর ২০১৯ সালে, তিনি গোঘাট-২ নম্বর ব্লক কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। দলকে সাংগঠনিকভাবে মজবুত করা ও নবীন নেতৃত্ব তৈরি করাই ছিল তাঁর লক্ষ্য। ২০২৪ সালে আবারও তিনি জেলা পরিষদের প্রার্থী হন কংগ্রেসের হয়ে, এবং ততদিনে তিনি হুগলি জেলা কংগ্রেসের সক্রিয় সদস্য হিসেবে সুপরিচিত মুখে পরিণত হয়েছেন। রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষা ক্ষেত্রেও ভবানীপ্রসাদ মণ্ডল উল্লেখযোগ্য। ১৯৮৭ সালে তিনি **আরামবাগ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। শিক্ষক সমাজের ঐক্য ও দাবিদাওয়ার স্বার্থে তিনি ওই বিদ্যালয়েই প্রথম শিক্ষকদের সংগঠন ‘এস.টি.এ’ (STA) গঠন করেন — যা পরবর্তীতে শিক্ষকদের মধ্যে সংগঠিত আন্দোলনের ভিত্তি হয়ে ওঠে। বর্তমানে ৬৭ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ নেতা হুগলি জেলা (২) আরামবাগ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি হিসেবে দলের সাংগঠনিক পুনর্গঠনে সক্রিয়।আমাদের সঙ্গে কথোপকথনে তিনি বলেন — “রাজনীতিতে টিকে থাকতে গেলে সংগঠনই আসল শক্তি। তরুণদের অংশগ্রহণ ছাড়া কংগ্রেসের পুনরুজ্জীবন অসম্ভব। আমরা তৃণমূল পর্যায়ে পুনর্গঠন শুরু করেছি।”বামফ্রন্টের সঙ্গে সম্ভাব্য জোট নিয়ে প্রশ্নে তাঁর মন্তব্য —“রাজনীতিতে সমঝোতা মানে আত্মসমর্পণ নয়। রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারই এখন প্রধান লক্ষ্য।”২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে ভবানীপ্রসাদ মণ্ডল বলেন —“কংগ্রেস এখন আর কেবল শহরের দল নয়। গ্রামাঞ্চলে নতুন করে সংগঠন গড়ে উঠছে। আরামবাগ, গোঘাট, খানাকুল—এই অঞ্চলে মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের আগ্রহ বাড়ছে।”তিনি আরও জানান, প্রার্থী বাছাইয়ে এবার স্থানীয় জনপ্রিয়তা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।“যে প্রার্থী মানুষের পাশে থেকেছে, তিনিই দলের মুখ হয়ে উঠবেন,” — দৃঢ় কণ্ঠে বলেন ভবানী বাবু। দীর্ঘ ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক ও শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছেন ভবানীপ্রসাদ মণ্ডল। তাঁর মতো অভিজ্ঞ নেতাদের হাতে কংগ্রেস সংগঠনের পুনরুজ্জীবন কতটা সফল হবে — তা সময়ই বলবে। তবে তাঁর অধ্যবসায়, শৃঙ্খলা ও মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা হুগলি জেলার রাজনীতিতে নিঃসন্দেহে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
![]()

More Stories
বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের লড়াই আজও প্রাসঙ্গিক — আরামবাগের সিপিআইএমের নেতা সমীর চক্রবর্তীর অভিজ্ঞতায় উঠে এল সংগঠনের বাস্তবতা
আধুনিক প্রযুক্তির যুগে পড়ুয়া সংকটে গোঘাটের লাইব্রেরিগুলি – পাঠক টানতে উদ্যোগের খোঁজে গ্রন্থাগারগুলি
কোলাহলের মাঝেই চলছে অখণ্ড হরিনাম— হুগলির বদনগঞ্জের কয়াপাট বাজারের মন্দিরে ৪৬ বছরের ঐতিহ্য