তোলা না দেওয়ায় মারধর, জখম ৪, মৃত ১

সোমালিয়া সংবাদ, পুরশুড়া: দাবিমতো তোলা না দেওয়ায় ৫ জনকে মারধরের অভিযোগ উঠল তোলাবাজদের বিরুদ্ধে। এমনকি পরে চিকিৎসা চলাকালীন একজনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় নাম জড়িয়েছে তৃণমূলের স্থানীয় পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে পুরশুড়ার শ্রীরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সাঁওতা গ্রামে। মৃতের নাম সেখ হাসিবুল হোসেন (৩৯)। বাড়ি ওই গ্রামেই। তিনি গরু কেনা বেচার ব্যবসা করতেন। তাঁর পরিবারের লোকেদের অভিযোগ, এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা দাবি করত। আর সেই টাকা না দেওয়াতেই এই মারধর। শনিবার সকালে হাসিবুল মাঠে গরু বাঁধতে গিয়েছিলেন। তখনই তাঁকে সেখানে লাঠি, রড ইত্যাদি দিয়ে মারধর করা হয়। তাঁকে বাঁচাতে ছুটে যান তাঁর ভাই এবং পরিবারের মেয়েরা। তাঁদেরকেও মারধর করা হয়। এছাড়াও তাঁদের আরেক ভাই জব কার্ডের কাজ করছিলেন। সেখানে গিয়ে আবার তাঁকে মারধর করা হয়। এই ঘটনায় হাসিবুল সহ মোট পাঁচজন আহত হন। তাঁদের মধ্যে দুই মহিলা রয়েছেন। মহিলা দুজনের প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়। বাকি তিন জনকে গুরুতর জখম অবস্থায় আরামবাগ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসিবুল ও আর একজনকে আরামবাগের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করা হয়। বিকেলের দিকে সেখানে হাসিবুলের মৃত্যু হয়। হাসিবুলের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, এই ঘটনার পিছনে হাত রয়েছে তৃণমূল উপপ্রধান সাদ্দামের। যদিও সাদ্দামের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই দীর্ঘদিন ধরে ওই পরিবার আই এস এফ-এর সঙ্গে জড়িত। তাই গ্রামবাসীরা খেপেছিলেন। তার জেরে এই ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি বিষয়টি কিছু জানেন না। এদিকে মৃত্যুর খবর পেয়ে শনিবার রাতেই নার্সিংহোম চত্বরে এসে পৌঁছান তৃণমূলের হুগলি জেলা সভাপতি দিলীপ যাদব। তিনি ওই পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও তিনি  আশা প্রকাশ করেন। অন্যদিকে এই ঘটনায় মৃতের ছেলে সেখ সম্রাট দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Loading