দূরত্ব, দুর্ভোগ আর দীর্ঘ বঞ্চনা—আরামবাগের জোরালো দাবি, এবার জেলা চাই

 সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: রাজ্যের প্রশাসনিক মানচিত্রে এখনও উপেক্ষিত নাম আরামবাগ। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ইস্তেহার প্রকাশিত হলেও আরামবাগকে জেলা ঘোষণার বিষয়টি কার্যত অদৃশ্য, যা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। বহুদিন ধরেই এই দাবিকে সামনে রেখে বিভিন্ন সংগঠন আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে, এমনকি রাজনৈতিক দলগুলিও নিজেদের সাংগঠনিক সুবিধার জন্য আরামবাগকে আলাদা জেলা হিসেবে ভাগ করেছে এবং এখানে একটি জেলা প্রেস ক্লাবও গড়ে উঠেছে, তবুও সরকারি স্বীকৃতি আজও অধরা। বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, এই বঞ্চনা শুধুই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অভাব নয়, বরং সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আরামবাগ মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকা যেমন খানাকুল, গোঘাট ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল প্রতি বছর বন্যার কবলে পড়ে, ফলে এই অঞ্চলকে হুগলির অন্যান্য অংশের তুলনায় আলাদা গুরুত্ব দিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু জেলা সদর  চুঁচুড়া এতটাই দূরে যে সাধারণ মানুষের জন্য প্রশাসনিক পরিষেবা পাওয়া একপ্রকার কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। আরামবাগের বিভিন্ন প্রান্তিক এলাকা যেমন কুমারগঞ্জ (৯৮ কিমি), সামন্তখন্ড (৯৭ কিমি), তিলারি (১১১ কিমি), হাজীপুর (১০০ কিমি), দামোদরপুর (৯৫ কিমি), রাংতাখালি (৯০ কিমি), পূর্ব ঠাকুরানিচক (৯৪ কিমি), জগতপুর (৯৪ কিমি) ও কাতাসিয়া (৯০ কিমি) থেকে চুঁচুড়া যেতে প্রায় ৩ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় লাগে, যা Google Maps অনুযায়ী নির্ধারিত, কিন্তু বাস্তবে বাস বা ট্রেনে যাতায়াত করলে এই সময় আরও বেড়ে যায়। ফলে একটি সাধারণ প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে বহু মানুষের একাধিক দিন নষ্ট হয় এবং অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হয়, বিশেষ করে দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষের ক্ষেত্রে এটি আরও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। শুধু সাধারণ মানুষ নয়, সরকারি কর্মচারী ও আধিকারিকদেরও প্রায়শই সদর দপ্তরে যেতে হয়, যা প্রশাসনিক কাজের গতি কমিয়ে দেয়। অন্যদিকে প্রতি বছর বন্যা পরিস্থিতির কারণে বহু গ্রাম জলবন্দি হয়ে পড়ে, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম দ্রুত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে একটি পূর্ণাঙ্গ জেলা প্রশাসন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। এই সমস্ত বাস্তবতা সত্ত্বেও এখনও আরামবাগ জেলা ঘোষণার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের সদিচ্ছা নিয়ে। স্থানীয় মানুষের বক্তব্য, দূরত্ব ও দুর্ভোগের এই চক্র থেকে মুক্তি পেতে আরামবাগকে জেলা করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। জনসংখ্যা, ভৌগোলিক বিস্তার, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি এবং প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তার বিচারে আরামবাগকে জেলা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া শুধু যুক্তিসঙ্গত নয়, সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। তাই একটাই স্লোগান এখন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে—“দ্রুত আরামবাগ জেলা চাই।”

Loading