সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহণ কেন্দ্র আরামবাগ বিজয় মোদক বাস স্ট্যান্ড আজ চরম অব্যবস্থা ও দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এই বাসস্ট্যান্ড ব্যবহার করলেও এর পরিকাঠামো, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। বাসস্ট্যান্ড এলাকা অত্যন্ত সংকীর্ণ, ফলে একদিকে বাসের ভিড়, অন্যদিকে বেআইনিভাবে চলাচল করা টোটোর দাপটে প্রায় সারাদিনই যানজট লেগে থাকে। বিশেষ করে বাসস্ট্যান্ডের প্রবেশ ও বেরোনোর উভয় দিকেই টোটোর অবাধ দাঁড়িয়ে থাকা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বাস ঢোকা বা বেরোনোর সময় যেভাবে টোটোগুলি রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে থাকে, তা শুধু যাত্রীদের বিরক্তির কারণ নয়, বরং বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়িয়ে দিচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সমস্যার দিকে প্রশাসনের নজর থাকলেও কার্যকরী পদক্ষেপের অভাব স্পষ্ট।
পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে বর্ষাকাল বা রাতে, যখন জল জমে রাস্তার গর্তগুলো অদৃশ্য হয়ে যায় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। বাসস্ট্যান্ডের ভিতরের রাস্তা অত্যন্ত খারাপ—উঁচু-নিচু, বড় বড় গর্ত এবং ছড়িয়ে থাকা পাথর যেকোনো সময় বিপদ ডেকে আনতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে বাসগুলি স্ট্যান্ডের ভিতরে দাঁড়াতে না পেরে বাইরে রাস্তাতেই পার্কিং করে অপেক্ষা করছে, যার ফলে মূল সড়কেও যানজট তৈরি হচ্ছে। এই অব্যবস্থার শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে চালক, শ্রমিক—সকলেই।
এদিকে বিকল্প হিসেবে সুজলপুরে একটি নতুন বাস টার্মিনাল নির্মিত হলেও তা এখনও চালু হয়নি, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এলাকাবাসীর মধ্যে। বহু মানুষের মত, এই নতুন টার্মিনাল চালু হলে আরামবাগ শহরের যানজট অনেকটাই কমে আসবে এবং বাস চলাচল আরও নিয়ন্ত্রিত হবে। কিন্তু কেন এই টার্মিনাল এখনও কার্যকর করা হয়নি, তা নিয়ে রয়েছে একাধিক জল্পনা ও অসন্তোষ।
স্থানীয় এক বাসযাত্রী বলেন, “প্রতিদিন এই বাসস্ট্যান্ডে এসে দাঁড়ানো মানেই দুর্ভোগ। কখন বাস আসবে, কখন বেরোবে—কিছুই ঠিক নেই, তার ওপর এই জ্যাম।” আর এক টোটোচালকের বক্তব্য, “আমাদের নির্দিষ্ট জায়গা নেই, তাই বাধ্য হয়েই এখানে দাঁড়াতে হয়।” অর্থাৎ সমস্যার শিকড় যেমন অব্যবস্থাপনা, তেমনই পরিকল্পনার অভাবও স্পষ্ট।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি ব্যস্ত মহকুমা শহরের জন্য আধুনিক ও প্রশস্ত বাস টার্মিনাল অত্যন্ত জরুরি। আরামবাগের বর্তমান বাসস্ট্যান্ড সেই চাহিদা পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। ফলে দ্রুত সুজলপুর টার্মিনাল চালু করা, টোটো ও অন্যান্য যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড নির্ধারণ করা এবং বাসস্ট্যান্ডের ভিতরের রাস্তা সংস্কার করা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে আরামবাগ বাসস্ট্যান্ডের বর্তমান চিত্র যেন এক দীর্ঘদিনের অব্যবস্থার প্রতিফলন, যেখানে প্রতিদিনের দুর্ভোগই হয়ে উঠেছে স্বাভাবিক ঘটনা। সাধারণ মানুষের একটাই প্রত্যাশা—দ্রুত হস্তক্ষেপ করুক প্রশাসন, ফিরুক শৃঙ্খলা, আর স্বস্তি মিলুক যাত্রীদের দৈনন্দিন যাত্রায়।



![]()

More Stories
মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুক পোস্ট, গোঘাট থানায় অভিযোগ—যুবক আটক
বাঁশের কঞ্চির ছিপ থেকে আধুনিক চারা,রিল—বদলে গিয়েছে মাছ ধরার সরঞ্জামের দুনিয়া
স্বর্গীয় বলরাম ঘোষের জন্মশতবর্ষে বাজুয়া হাই স্কুলের কাবাডি ও ফুটবল প্রতিযোগিতা