কামারপুকুরে রাস্তার শিলান‍্যাস

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: দীর্ঘদিন ধরে মানুষ লক্ষ্য করতেন উন্নয়নমূলক কাজ যা কিছু সব ভোটের মুখে। আর ভোট ফুরোলেই নেতাদের দেখা মিলতো না। কিন্তু এ রাজ্যে গত দশ বছর তৃণমূল ক্ষমতায় থাকার পর সেই ধারণাটাই বদলে গেছে। শুধু ভোটের মুখে নয়, সারা বছর ধরেই চলে উন্নয়নের কাজ। এমনকি যে সমস্ত বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন সেখানেও কখনও উন্নয়ন থেমে থাকে না। আর তা যে শুধুমাত্র কথার কথা নয় সেই প্রমাণ মিলল গোঘাটের কামারপুকুরে। গোঘাট বিধানসভা কেন্দ্রে এবারের নির্বাচনে গতবারের বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী মানস মজুমদার  বিজেপির কাছে হাজার চারেক ভোটে পরাজিত হয়েছেন। কিন্তু তাই বলে তিনি লড়াইয়ের ময়দান ছেড়ে পালিয়ে যাননি। পরাজয়ের পরেও তিনি গোঘাটের মাটি কামড়ে ধরেই পরে রয়েছেন। সাধারণ মানুষের সুবিধা অসুবিধায় যে কোন এলাকায় প্রতিদিন ছুটে যাচ্ছেন। করোনাকালে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এখনও লড়াই করে চলেছেন। শুধু তাই নয়, গ্রামের মানুষের দাবী মেনে বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়নের কাজও করে  চলেছেন। কামারপুকুরে দুটি গ্রামীণ রাস্তার দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। মানসবাবুর উদ্যোগেই সেই দুটি রাস্তার শিলান‍্যাস হয়ে গেল। উপস্থিত ছিলেন হুগলি জেলা সভাধিপতি মেহেবুব রহমান, জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ সুবীর মুখার্জি ছাড়াও মানসবাবু নিজে এবং কামারপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান তপন মন্ডল। রাস্তা দুটির একটি হল জয়রামবাটি সংলগ্ন পশ্চিম অমরপুর থেকে হরিসভা জমিদারবাড়ি হয়ে হলদিপুর। এই রাস্তার দৈর্ঘ্য সাড়ে তিন কিমি। এর জন্য খরচ হবে প্রায় ৯৯ লক্ষ টাকা। আরেকটি রাস্তা হল কামারপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিএলআরও অফিস থেকে বেঙ্গাই রোড হয়ে টাঁড়ুই গ্রাম পর্যন্ত। এই রাস্তাটির দৈর্ঘ্য তিন কিমির কিছুটা বেশি। এর জন্য খরচ হবে সাড়ে ৯৬ লক্ষ টাকা। মানসবাবু জানান, রাজ্য পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের আর্থিক সহযোগিতায় এবং হুগলি জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে এই কাজ হবে। এর ফলে খুশি এলাকার মানুষজন। এ বিষয়ে প্রাক্তন বিধায়ক মানস মজুমদার বলেন, যারা ভেবেছিলেন হেরে গিয়ে আমি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাব, তাঁরা ভুল ভেবেছিলেন। যতদিন বাঁচবো তৃণমূলের সঙ্গে থাকবো আর দিদির আদর্শ মেনে সাধারণ মানুষের কাজ করে যাব।

Loading