শ্রী রামকৃষ্ণ ও বামাক্ষ্যাপার মহামিলন — এক লোকপ্রচলিত ভক্তকথা

সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ বাংলার আধ্যাত্মিক ইতিহাসে শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব ও তারাপীঠের সাধক বামাক্ষ্যাপা দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁদের এক অলৌকিক সাক্ষাতের কাহিনি আজও ভক্তসমাজে শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রচলিত।

কথিত আছে, একবার বামাক্ষ্যাপা কলকাতার কালীঘাটে মা কালীকে দর্শন করতে আসেন। আদিগঙ্গায় স্নান শেষে তিনি মাতৃমূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে আবেগভরে বলেন, “চল মা, তোকে আমি আমার তারামায়ের কাছে নিয়ে যাব।” তিনি মূর্তি স্পর্শ করতে গেলে মন্দিরের পুরোহিতেরা তাঁকে বাধা দেন। এতে শিশুর মতো অভিমান করে বামাক্ষ্যাপা বলেন, “চাই না আমি এই মা কালীকে, আমার তারা মা-ই ভালো।” তারপর তিনি মন্দির ত্যাগ করেন।

মন্দির থেকে বেরিয়ে আসার সময় তাঁর সঙ্গে দেখা হয় যুগপুরুষ শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের। বামাক্ষ্যাপার অভিমান বুঝে রামকৃষ্ণদেব স্নেহভরে বলেন, “চলো, শ্যামনগরে আমার আর এক মা আছেন, তাঁকে দেখে আসি।”

এরপর দুই মহাসাধক আদিগঙ্গা পথে নৌকায় করে শ্যামনগরের মূলাজোড় কালীবাড়ি যান। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই সেই কালীমন্দির যেখানে সাধক রামপ্রসাদ সেনের ভক্তিগীতি শোনার জন্য মা কালী নিজেই দক্ষিণমুখী অবস্থা থেকে পশ্চিমমুখী হয়েছিলেন। সেই থেকেই এই মন্দির বিশেষ মাহাত্ম্য লাভ করে।

মন্দিরে দেবীর শান্ত ও সৌম্য রূপ দর্শন করে বামাক্ষ্যাপার সমস্ত অভিমান দূর হয়ে যায়। তিনি গভীর শান্তি অনুভব করেন, গঙ্গাস্নান করেন এবং সেদিন রাতে স্বহস্তে মাতৃপূজাও সম্পন্ন করেন।

পরদিন শ্রী রামকৃষ্ণদেব তাঁকে নৌকায় করে হাওড়া স্টেশনে পৌঁছে দেন। সেখান থেকে বামাক্ষ্যাপা ফিরে যান তারাপীঠে, তাঁর আরাধ্যা তারা মায়ের সান্নিধ্যে। আর রামকৃষ্ণদেব নৌকায় দক্ষিণেশ্বরের উদ্দেশে রওনা দেন।

এই কাহিনি বাংলার দুই মহান সাধকের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মাতৃভক্তি এবং সর্বধর্মসমন্বয়ের এক অনন্য প্রতীক হিসেবে ভক্তদের কাছে আজও সমানভাবে সমাদৃত।

Loading