সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ খরচ কমানো এবং সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন্দ্রীয় ‘পিএম সূর্যঘর মুফত বিজলি যোজনা’-র সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গতকাল নবান্ন সভাঘর থেকে ভার্চুয়ালি এই প্রকল্পের সূচনা করেন। অনুষ্ঠানে তিনি জানান, রাজ্যে ইতিমধ্যেই ১,৮১০ জন গ্রাহক এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন এবং আগামী দিনে এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের অসহযোগিতার কারণে এতদিন এই প্রকল্প চালু করা সম্ভব হয়নি। এখন বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুৎ (রুফটপ সোলার) ব্যবস্থা স্থাপন করে প্রতি মাসে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা ভর্তুকি দেওয়া হবে।
এছাড়া তপশিলী জাতি (এসসি) ও তপশিলী উপজাতি (এসটি) পরিবারের জন্য রাজ্য সরকার অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছে। প্রতি ১০০ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা ভর্তুকি দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে বহু উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে সম্পূর্ণ ভর্তুকির অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১০০ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষম সৌর প্যানেল বসানো, রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে মোট ব্যয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা। এর মধ্যে উপভোক্তাকে মাত্র ২০ হাজার টাকা বহন করতে হবে, বাকি অর্থ ভর্তুকি হিসেবে দেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্র আগামী মার্চ মাসের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে ১ লক্ষ গ্রাহককে এই প্রকল্পের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও রাজ্য সরকার ৫ লক্ষ গ্রাহককে এই সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে। অনুষ্ঠানে তিনি কয়েকজন উপভোক্তার সঙ্গে ভার্চুয়ালি কথা বলে তাঁদের অভিজ্ঞতাও শোনেন।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বিদ্যুৎ চুরি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ চুরি শুধু সরকারি সংস্থার আর্থিক ক্ষতিই করে না, সৎ গ্রাহকদের উপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। একইসঙ্গে দীর্ঘদিনের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল দ্রুত পরিশোধের আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন যে, নিয়ম না মানলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গ্রাহক পরিষেবাকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে স্মার্ট মিটার ব্যবহারের উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। স্মার্ট মিটারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহার, বিলের পরিমাণ এবং রিচার্জ বা বিল পরিশোধের তথ্য সহজেই জানা যাবে। পাশাপাশি একটি নতুন মোবাইল অ্যাপ চালুর কথাও জানানো হয়েছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে নতুন সংযোগের আবেদন, বিল পরিশোধ, বিদ্যুৎ ব্যবহার পর্যবেক্ষণ, অভিযোগ দায়ের এবং বিভিন্ন পরিষেবা ঘরে বসেই পাওয়া যাবে।
রাজ্য সরকারের দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ বিল কমবে, অন্যদিকে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিদ্যুৎ পরিষেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

![]()

More Stories
পশ্চিমবঙ্গের গ্রামোন্নয়নে কেন্দ্রের প্রায় ২,৫২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ
শ্রী রামকৃষ্ণ ও বামাক্ষ্যাপার মহামিলন — এক লোকপ্রচলিত ভক্তকথা
প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর: মুফত বিজলী যোজনায় রাজ্যের প্রথম ১,৮০০ উপভোক্তার বাড়িতে সৌর বিদ্যুতের উদ্বোধন আজ