September 20, 2026

ফসল বিমায় ৩২ লক্ষ কৃষক, দেশে দ্বিতীয় বাংলা: বন্যাকবলিত জেলাগুলিতে বিশেষ নজর সরকারের

সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিস্থিতিতে কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা দিতে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনাকে ঘিরে রাজ্যে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ২০২৬ সালের খরিফ মরসুমে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের মোট ৩২ লক্ষ কৃষক প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার আওতায় নথিভুক্ত হয়েছেন। তাঁর দাবি, কৃষক নথিভুক্তির নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ বর্তমানে গোটা দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, ২০১৯-২০ সালে তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনায় কৃষকদের নথিভুক্তিকরণ বন্ধ করে দিয়েছিল। রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর কৃষকদের স্বার্থে ফের এই বিমা সুবিধা চালু করা হয়েছে বলে তিনি জানান। নতুন সরকারের আমলে প্রথম দফার নথিভুক্তিতেই কৃষকদের ব্যাপক সাড়া মিলেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলিতেও নথিভুক্তির হার উল্লেখযোগ্য বলে পোস্টে জানানো হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরে ৭.২৩ লক্ষ, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৪.৭৩ লক্ষ, হুগলিতে ১.৬৮ লক্ষ এবং ঝাড়গ্রামে প্রায় ৪২ হাজার কৃষক এই বিমার আওতায় এসেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। বন্যাদুর্গত এলাকার কৃষকদের সুবিধার্থে আগস্ট মাস থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে বিশেষ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

কৃষকদের প্রিমিয়ামের বোঝা কমাতেও রাজ্য সরকার বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে বলে দাবি শুভেন্দু অধিকারীর। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এক হেক্টর অর্থাৎ প্রায় ২.৫০ একর পর্যন্ত জমির ক্ষেত্রে কৃষকদের মাত্র এক টাকা প্রতীকী অর্থ দিতে হচ্ছে। এক থেকে দুই হেক্টর জমির ক্ষেত্রে একর প্রতি ১০০ টাকা দিতে হচ্ছে। বাকি প্রিমিয়ামের অর্থ রাজ্য সরকার নিজস্ব বাজেট থেকে বহন করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে, চলতি বছরের আগস্টের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার লক্ষ্যে বিমা সংস্থাগুলিকে ‘মিড-সিজন অ্যাডভার্সিটি’-র ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন দ্রুত চূড়ান্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণগ্রহীতা কৃষকদের নথিভুক্তির সময়সীমা ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে আগামী দিনে বিমার আওতায় কৃষকের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো এবং ফসলের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে নিজের পোস্টে উল্লেখ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের কৃষক সমাজের ফসলের সুরক্ষা এবং ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ চালিয়ে যাবে।

Loading