অবহেলিত বিদ্যাসাগরের পিতৃভিটে আরামবাগের বনমালীপুর

সোমালিয়া সংবাদ, আরামবাগ: ২০২তম জন্মদিনে বিদ্যাসাগরের  আদিবাড়ি আরামবাগের বনমালীপুরই প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকে গেল। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মস্থান বীরসিংহের নাম সকলের জানা থাকলেও এই আদিবাড়ি বনমালীপুরের নাম অনেক বাঙালিই জানেন না। অথচ এই বনমালিপুর বিদ্যাসাগরের বাবা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঠাকুরদা রামজয় তর্কভূষণের ভিটে। এমনকি এখানে বিদ্যাসাগর নিজেও একটি বাড়ি তৈরি করেছিলেন। যদিও সেই বাড়ির এখন আর কোন চিহ্ন নেই। বর্তমানে ঠাকুরদাসের কাকা রামচরণের বংশধর অশোক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রাচীর দিয়ে ঘিরে সৌন্দর্যায়ন করেছেন। জানা যায়, বনমালীপুরে এসে বিদ্যাসাগর দুঃস্থ মানুষদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া ছাড়াও নানা সমাজসেবামূলক কাজকর্ম করতেন। বিভিন্ন জায়গার সঙ্গে বনমালীপুর সংলগ্ন মলয়পুরে একটি বালিকা বিদ্যালয় গড়ে তুলেছিলেন নিজের কাজের সুবিধার জন্য বিদ্যাসাগর বাপ-‌ঠাকুরদার ভিটেতে একটি মাটির বাড়ি তৈরি করেছিলেন। কিন্তু নারী শিক্ষার বিষয়টি সেসময় বেশ কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ মেনে নেয়নি। তাই তারা ওই স্কুলটি আগুনে পুড়িয়ে দেয়। এই ঘটনায় বিদ্যাসাগর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। এরপরে যাতায়াত কমিয়ে দেন ধীরে ধীরে। আড়ালে চলে যায় বনমালীপুর। পরিবার ও প্রতিবেশীদের আক্ষেপ, এত বড় এক মনীষীর বাড়ি হওয়া সত্ত্বেও বহুদিন ধরে বনমালিপুর আড়ালেই থেকে গেছে। ১৯৯৮ সালে বিদ্যাসাগরের একটি আবক্ষ মূর্তি বসানো ছাড়া আর কিছু হয়নি। এভাবেই আড়ালেই থেকে যায় বনমালীপুর।

Loading