সোমালিয়া সংবাদ, আরামবাগ: আরামবাগ পুরসভায় নতুন পুরপ্রধান হিসেবে প্রবীণ তৃণমূল নেতা সমীর ভান্ডারীর নাম ঘোষণা হওয়ার পরই খুশির হাওয়া আরামবাগের আদি তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে। মঙ্গলবার সন্ধেয় নাম ঘোষণার পর থেকেই সমীরবাবুর অনুগামীরা আনন্দ উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন। নতুন পুরপ্রধানকে মালা পরিয়ে মিষ্টিমুখ করান। সঙ্গে ছিলেন নতুন উপপুরপ্রধান মমতা মুখার্জি ও প্রাক্তন উপপুরপ্রধান রাজেশ চৌধুরী। মমতাদেবী আরামবাগবাসীর কাছে অতি পরিচিত মুখ হলেও রাজনীতিতে একেবারেই নবাগত। উল্লেখ্য, এর আগে তৃণমূল নেতা স্বপন নন্দী পুরপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এবারের নির্বাচনেও তিনি আরামবাগ ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জয়লাভ করেছিলেন। অনেকেই ভেবেছিলেন এবারও তিনি পুরপ্রধানের দায়িত্ব পাবেন। কিন্তু দলের উচ্চ নেতৃত্ব এবার প্রবীণ নেতা সমীর ভান্ডারীকে সেই দায়িত্ব দেন। সমীরবাবুর রাজনীতিতে হাতেখড়ি একেবারে ছাত্রজীবনেই। ১৯৭১ সালে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন ছাত্র পরিষদের জয়ী প্রতিনিধি ছিলেন তিনি। পরবর্তীকালে তিনি কংগ্রেসের সক্রিয় রাজনীতিতে যোগদান করেন। ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের সময় থেকেই তিনি তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত। তারপর তৃণমূলের সংগঠনের বিভিন্ন দায়িত্ব সামলেছেন। কিন্তু তেমনভাবে কখনোই সামনের সারিতে আসেননি। ২০১৫ সালের নির্বাচনে আরামবাগ পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। তখনও তাঁর পুরপ্রধান হওয়ার একটা সম্ভাবনা দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এবারের পুরসভা নির্বাচনে তাঁর উত্থান একেবারে নাটকীয়। প্রথম যে প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল সেখানে তাঁর নামই ছিল না। পরবর্তীকালে সংশোধিত তালিকায় তাঁকে ১৬নম্বর ওয়ার্ড থেকে প্রার্থী করা হয়। ওই ওয়ার্ডে তিনি হেভিওয়েট নির্দল প্রার্থী আজিজুল হোসেনকে পরাজিত করেন। তারপর সোমবার সন্ধেয় তাঁর নাম ঘোষণা হওয়ার পরেই উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন তাঁর অনুগামীরা। অন্যদিকে মমতা মুখার্জিরও প্রথম তালিকায় নাম ছিল না। দ্বিতীয় তালিকাতে আরামবাগ ৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি আরামবাগের একটি নার্সারী স্কুলে শিক্ষকতা সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে তিনি ওই স্কুলের অধ্যক্ষা। এছাড়াও তিনি নৃত্য শিক্ষিকা হিসেবেও আরামবাগের মানুষের কাছে অতি পরিচিত মুখ।
![]()

More Stories
ফুরফুরা পঞ্চায়েতে জট কাটল, ৫ বিজয়ীকে শংসাপত্র দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের
সহযোদ্ধার বিদায়, নিভে গেল এক নীরব শক্তির প্রদীপ—প্রয়াত গোঘাটের মনোরঞ্জন পালের স্ত্রী শোভা পাল
ভুলতে বসা সুরের মানুষ— শেষ গান ‘ওগো বন্ধু বিদায়’ আজও ভাসায় চোখের জল”