মা সারদার উপর ডাকাতি করতে গিয়ে মা কালীর দর্শনড় ডাকাতি ছেড়ে কালীপুজো শুরু করেন ডাকাত সর্দার ভীম

সোমালিয়া সংবাদ, আরামবাগ: আরামবাগ মহকুমার জনপ্রিয় কালীপুজোগুলির মধ্যে অন্যতম হল আরামবাগের ভালিয়া গ্রামের পুজো। কার্তিক মাস এলেই এই গ্রামে অসংখ্য মানুষের যাতায়াতে ব্যস্ততা বেড়ে যায়। এই গ্রামে বছরে দুটি কালীপুজো অনুষ্ঠিত হয়। একটি ডাকাতে কালীর পুজো, অন্যটি ভীম সর্দারের কালীপুজো। গ্রামে কালীমায়ের পাশাপাশি ডাকাত সর্দার ভীমেরও মূর্তি রয়েছে। ডাকাতে কালীপুজো অনুষ্ঠিত হয় আষাঢ় মাসে। আর এখন কার্তিক মাসে মহা ধুমধামের সঙ্গে যে কালীপুজো হয় তার প্রচলন করেছিলেন ডাকাত সর্দার ভীম। এই পুজো দেখতে শুধু এলাকার মানুষই নন, সারা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেক ভক্তের সমাগম ঘটে। অনেকেই শ্রদ্ধা ভরে  দানধ্যানও করেন। কারণ এই পুজো প্রচলনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মা সারদাদেবীর নাম। কথিত আছে, একবার শ্রীরামকৃষ্ণদেব দক্ষিণেশ্বরে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। সেই খবর পেয়ে সারদাদেবী জয়রামবাটি থেকে পায়ে হেঁটে আরামবাগের তেলো-ভেলোর মাঠ দিয়ে দক্ষিণেশ্বরে যাচ্ছিলেন। সেই সময় এই মাঠে ডাকাতের ভীষণ উপদ্রব ছিল।

প্রতিদিন অন্ধকার নামলেই ভীম সর্দারের দলবল ডাকাতে কালীর পুজো করে ডাকাতি শুরু করতো। স্বাভাবিকভাবেই ওইদিন সন্ধেতেও ভীম সর্দারের কবলে পড়েন মা সারদাদেবী। কিন্তু সারদাদেবীর জিনিসপত্র লুট করার মুহূর্তে ভীম সর্দারের মনে হয় মা কালী মা সারদা রূপে দেখা দিয়েছেন। এরপর ভীম সর্দার সস্ত্রীক সারদাদেবীর সেবা করে তাঁকে নিরাপদে দক্ষিণেশ্বরে পাঠান। আর ওই বছর থেকেই ভীম সর্দার ডাকাতি ছেড়ে দিয়ে নিজের বাড়িতে কালীপুজো শুরু করেন। ভীম সর্দারের  বর্তমান বংশধর উদয় মাঝি জানান, আগে তালপাতার ছাউনি দেওয়া মন্ডপে পুজো হতো। এখন এ্যাসবেস্টসের ছাউনি দেওয়া মন্ডপে  সারা বছর অমাবস্যায় পুজো হয়। কার্তিক মাসের অমাবস্যায় চারদিন ধরে উৎসব চলে। বহু ভক্তের সমাগম হয়। আর এক সদস্য সুশান্ত মাঝি জানান, ডাকাতি ছাড়ার পর সর্দার পরিবারের পুরুষরা দূর দূরান্তের জলা এলাকায় মাছ ধরে সংসার চালাতেন। কিন্তু ‘সর্দার’ পদবী শুনেই তাঁদের অনেকে মাছ ধরতে দিতেন না, থাকতে দিতেন না তাঁদের গ্রামেও। এছাড়া ওই পদবীর জন্য নানা রকম পুলিশি ঝামেলা পোহাতে হতো। তাই তাঁরা তখন ‘সর্দার’ পদবী ছেড়ে ‘মাঝি’ হয়ে ওঠেন। গ্রামবাসীরা জানালেন, বছরে পর বছর ধরে এই কালীপুজোকে ঘিরে মানুষের মধ্যে উন্মাদানা বেড়ে চলেছে। 

Loading