গোঘাটের ভাদুরে গুলিকাণ্ডে গ্রেফতার ৩ বিজেপি কর্মী

সোমালিয়া সংবাদ, গোঘাট: বিজেপির এক যুবনেতার গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় পুলিশ গ্রেফতার করল তিন বিজেপি কর্মীকে। শনিবার রাতে গোঘাটের নবাসন এলাকা থেকে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। অভিযোগ,  নিজেরা বন্দুক নিয়ে নাড়াচাড়া করার সময় সেখান থেকে গুলি বেরিয়ে ওই বিজেপি যুবনেতার পায়ে ঢুকে যায়। এই ঘটনায় তিনি গুরুতর জখম হন। পুলিশ ধৃতদের মাধ্যমে ওই পিস্তল এবং দু’রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। আহত ওই বিজেপি যুবনেতার নাম শুভময় কুন্ডু। তাঁর বাড়ি গোঘাটের নবাসন গ্রামে। শনিবার দুপুরে তিনি জানিয়েছিলেন, গোঘাটের ভাদুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পোড়াবাগান এলাকায়  দুষ্কৃতীদের গুলিতে তিনি জখম হন। তাঁরা তিনজন বাইকে করে ওই এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখনই দুষ্কৃতীরা গুলি ছোঁড়ে। এরপর সহকর্মীরা শুভময়কে কামারপুকুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে সেখান থেকে তাঁকে আরামবাগ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গোঘাটের বিজেপি প্রার্থী বিশ্বনাথ কারক এই ঘটনায় তৃণমূলের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছিলেন। কিন্তু এরপরেই আরামবাগ হাসপাতালে গিয়ে আহতের বয়ান রেকর্ড করেন আরামবাগ এসডিপিও অভিষেক মন্ডল ও আরামবাগ থানার আইসি পার্থসারথি হালদার। পরে আহত শুভময়ের সঙ্গে থাকা অন্য দুই সহকর্মীকে নিয়ে গোঘাট থানার ওসি অনিলরাজ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। সেখানে স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে কথা বলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তখনই পুলিশের বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হয়। এরপর তারা শুভময়ের দুই সহকর্মীকে নানাভাবে জেরা করে। পুলিশের দাবি, জেরার মুখে ওই দুই বিজেপি কর্মী জানিয়েছে, তারা ভাদুরের মকদমতলা এলাকায় বসেছিল। তখন বন্দুক নিয়ে নাড়াচাড়া করার সময় সেখান থেকে গুলি বেরিয়ে শুভময় পায়ে লাগে। এরপর পুলিশ রাতেই ওই বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নবাসন গ্রামের একটি খড়ের গাদা থেকে ওই বন্দুক ও দু রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। গ্রেপ্তার করা হয় ওই তিন বিজেপি কর্মী সুমন সাহানা, সুমন পাখিরা ও দেবাশিস রায়কে। পাশাপাশি  আরামবাগ মহকুমা হাসপাতালে পুলিশের ঘেরাটোপের মধ্যে আহত শুভময়ের চিকিৎসা চলছে। তিনি জানান, তৃণমূল পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে চক্রান্ত করে বিজেপি নেতা-কর্মীদের ফাঁসাচ্ছে। ওদের সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন। এ বিষয়ে গোঘাটের বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী মানস মজুমদার বলেন, ওইদিন বর্ধমানে নির্বাচন চলছিল। ওই বিজেপি কর্মীরা সেখানে গুলি বন্দুক পাচার করতে যাচ্ছিল। তখন নিজেদের বন্দুক থেকে গুলি ছিটকে লেগেছে। আর তার দায় তৃণমূলের উপর চাপানোর চেষ্টা করছিল। কিন্তু পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে বিষয়টির রহস্য উদ্ধার করায়  ওদের সেই উদ্দেশ্য সফল হয়নি। এর জন্য মানসবাবু পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। অন্যদিকে গোঘাটের বিজেপি প্রার্থী বিশ্বনাথ কারক বলেন, তৃণমূল ভোটের শুরু থেকেই গুলি বন্দুকের খেলা খেলতে চাইছে এবং নিরীহ লোকদের উপর আক্রমণ করতে চাইছে। বিজেপির যে সুনাম আছে তা নষ্ট করতে চাইছে। পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে। আমরা পুলিশকে বলেছি তদন্ত সাপেক্ষে তারা সমস্ত ব্যবস্থা নেবে। যারা বেআইনিভাবে গুলি-বন্দুক দিয়ে খেলা করবে তারা যে দলেরই হোক তাদেরকে আমরা যেমন প্রশ্রয় দেব না, পুলিশও নিশ্চয় তাদেরকে প্রশ্রয় দেবে না।

Loading