সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: বয়স্ক মানুষদের জন্য আরামবাগ পুরসভা মঙ্গলবার থেকে শুরু করলো ‘দুয়ারে ভ্যাকসিন’। ষাট বছরের উর্ধ্বে যে সমস্ত ব্যক্তি ভ্যাকসিন প্রদান কেন্দ্রে গিয়ে ভ্যাকসিন নেওয়ার মতো কর্মক্ষম নন বা অসুস্থ প্রতিবন্ধী তাঁদেরকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হল। এই কাজ নিয়মিত চলবে বলে জানিয়েছেন আরামবাগ পুরপ্রশাসক স্বপন নন্দী। এদিন তিনি নিজেও স্বাস্থ্যকর্মী ও কো-অর্ডিনেটরদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে আরামবাগ ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সুপাড়ার বাসিন্দা আন্নাবালা সেনের বয়স প্রায় ৯৮ বছর। তাঁর ছেলে নবীনচন্দ্র সেন জানালেন, শুনলাম পুরসভার পক্ষ থেকে পাড়াতে অতি বৃদ্ধ বৃদ্ধাদের ভ্যাকসিন দিতে এসেছে। তখন পুরপ্রশাসককে জানাতেই তিনি নিজে উদ্যোগ নিয়ে মাকে ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা করলেন। আমরা কখনও এতটা আশা করিনি। আমরা অভিভূত। এর ফলে বয়স্ক মানুষরা ভীষণভাবে উপকৃত হবেন। পুরপ্রশাসক স্বপন নন্দীর এই উদ্যোগকে আমরা আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাচ্ছি। ওই এলাকারই গৃহবধূ পূর্ণিমা সেন জানালেন, তাঁর অসুস্থ পিসিমা কথা পর্যন্ত বলতে পারেন না। তাই পুরসভার পক্ষ থেকে বাড়িতে এসে ভ্যাকসিন দিচ্ছে। এখন ভ্যাকসিন কেন্দ্রগুলিতে ভীষণ ভিড় হচ্ছে। তারফলে খুব বয়স্কদের সেখানে গিয়ে ভ্যাকসিন নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই পুরসভার এই উদ্যোগে বহু বৃদ্ধ-বৃদ্ধা উপকৃত হবেন। এ বিষয়ে পুরপ্রশাসক স্বপন নন্দী বলেন, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে স্বাভাবিকভাবে ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবুও আমরা ষাট বছর বয়সের ঊর্ধ্বে যে সমস্ত ব্যক্তিদের ভ্যাকসিন বাকি আছে তাঁদের একটি তথ্য মাইকিং করে চেয়েছিলাম। সেখানে অনেকেই পুরসভায় নাম লিখিয়ে গিয়েছিলেন। তখন আমরা দেখলাম তাঁদের মধ্যে নব্বই বছরের বেশি বয়সীও অনেকে রয়েছেন। তাঁরা আমাদের মা-বাবার মত। তাঁদের পক্ষে ভ্যাকসিন গ্রহণ কেন্দ্রে গিয়ে ভ্যাকসিন নেওয়া সম্ভব নয়। তাই আমরা ঠিক করেছি পুরসভার পক্ষ থেকে তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। এছাড়াও ৬০ বছরের উর্ধ্বে প্রতিবন্ধী ও অসুস্থদেরও চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ভ্যা:কসিন দেওয়া হবে। এদিন থেকে তারই কাজ শুরু হয়েছে।
![]()

More Stories
ফুরফুরা পঞ্চায়েতে জট কাটল, ৫ বিজয়ীকে শংসাপত্র দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের
সহযোদ্ধার বিদায়, নিভে গেল এক নীরব শক্তির প্রদীপ—প্রয়াত গোঘাটের মনোরঞ্জন পালের স্ত্রী শোভা পাল
ভুলতে বসা সুরের মানুষ— শেষ গান ‘ওগো বন্ধু বিদায়’ আজও ভাসায় চোখের জল”