অতিরিক্ত পণ দিতে না পারায় গৃহবধূকে খুনের অভিযোগ শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে

সোমালিয়া সংবাদ, আরামবাগ: অতিরিক্ত পণের দাবি মেটাতে না পারায় এক গৃহবধূকে খুনের অভিযোগ উঠল শ্বশুরবাড়ির লোকদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ওই গৃহবধূর বাবা খানাকুল থানায় স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির চারজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। জানা গেছে, ওই গৃহবধূর নাম খুশি ঘোষ (২২)। তাঁর বাপের বাড়ি খানাকুলের শ্রীরামপুর গ্রামে। বছর চারেক আগে তাঁর বিয়ে হয়েছিল খানাকুলের সেনহাট গ্রামের তারক ঘোষের সঙ্গে। তিনি খানাকুলের একটি প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরিতে কাজ করেন। তাঁদের তিন বছরের একটি মেয়ে আছে। খুশির বাবা শ্রীকান্ত পাল জানান, বিয়ের সময় দশ ভরি সোনা ও দু’লক্ষ টাকা নগদ এবং অন্যান্য দানসামগ্রী দেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই মেয়েকে বাপের বাড়ি থেকে আরও টাকা নিয়ে আসার জন্য চাপ দেওয়া শুরু হয়। মেয়ে তাতে রাজি না হওয়ায় তার ওপর প্রথমে মানসিক ও পরে শারীরিক অত্যাচার শুরু হয়। একটি মেয়ে হলে সেই অত্যাচারের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। এমনকী মারধর করে মেয়েকে বাড়ির বাইরে বের করে দিত। বাপের বাড়ি চলে আসতে বাধ্য হতো। পরে  আবার বুঝিয়ে শ্বশুরবাড়িতে পৌছে দিয়ে আসা হত। শ্রীকান্তবাবু আরও জানান, এমনকি শ্বশুরবাড়ির দাবি অনুযায়ী, এবছর ৫ জানুয়ারি তিনি এক লক্ষ টাকা দিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু তারপরে আরও এক লক্ষ টাকা দাবি করে। এর প্রতিবাদ জানিয়েছিল খুশি। তারপরেই বৃহস্পতিবার সন্ধেয় শ্রীকান্তবাবুরা জানতে পারেন খুশি গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। খুশির বাবা শ্রীকান্ত পাল ও অন্যান্যদের অভিযোগ, তাঁদের মেয়ে আত্মহত্যা করেনি। তাঁকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলা হয়েছে। পরে তাঁকে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।  পুলিশ পুরো ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্ত চারজনকেই আটক করেছে।

Loading