গৃহশিক্ষকদের খুন করার হুমকি দিয়ে পোস্টার

সোমালিয়া সংবাদ, গোঘাট: আন্দোলন করতে যাওয়ার আগে স্ত্রীকে সাদা শাড়ি পরিয়ে বেরোনার নির্দেশ দিয়ে খুনের হুমকি পোস্টার দেওয়া হল ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রাইভেট টিউটর ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদেরকে। এমনই পোস্টারকে ঘিরে বুধবার তীব্র চাঞ্চল্য গোঘাটের বদনগঞ্জ এলাকায়। এই ঘটনায় ওই প্রাইভেট টিউটর সংগঠনের পক্ষ থেকে গোঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সংগঠনের হুগলি জেলা কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সৌমিত্র রায় জানান, বুধবার সকালে বদনগঞ্জ হাইস্কুলের প্রধান ফটকের সামনে এবং অন্যান্য কিছু জায়গায় স্থানীয় মানুষ এই পোস্টারগুলি দেখতে পান। রীতিমতো মাওবাদী কায়দায় এধরনের পোস্টার এর আগেও ৪ আগস্ট ওই এলাকাতে দেখা গিয়েছিল। সেবারও সংগঠনের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছিল। এবার সেই অভিযোগ জানানোর পরিপ্রেক্ষিতে আবার পোস্টার দেওয়া হয়েছে। সেখানে দু’জন প্রাইভেট টিউটরের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘এই বয়সে কি মরার পালক গজিয়েছে? আমরা শুধু এই দু’জন ব্যক্তিকে বলছি তা নয়, আমরা এই এলাকার সমগ্র আন্দোলনকারীদের বলছি’। এছাড়াও আন্দোলন করলে দুনিয়া ছাড়া করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সব শেষে বলা হয়েছে ‘এরপরেও যদি আপনাদের এই স্কুলশিক্ষক বিরোধী আন্দোলন করতে মন চায় তাহলে আপনারা বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে আপনাদের যে যার স্ত্রীকে সাদা শাড়ি পরিয়ে বেরোবেন। আমরা নোটিশ দিচ্ছি মানে এই নয় যে আমরা কিছু করব না’। উল্লেখ্য, সম্প্রতি সরকারি নির্দেশিকা জারি করে স্কুল শিক্ষকদের টিউশন পড়ানো বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর সে ব্যাপারে স্কুল শিক্ষক নন এমন প্রাইভেট টিউটররা সেই নির্দেশিকাকে কার্যকর করতে আন্দোলন করছেন। তারপরেই ছাত্র-ছাত্রীদের বয়ানে এই এলাকায় এভাবে পোস্টার দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সৌমিত্রবাবু বলেন, এগুলো ছাত্রদের কাজ নয়। সরকারি নির্দেশিকা জারির ফলে যে সমস্ত শিক্ষকদের ব্যবসা করতে অসুবিধা হচ্ছে এসব তাঁদের কাজ। হয় তাঁরা নিজেরাই রাতের অন্ধকারে ছাত্র-ছাত্রীদের নাম করে এইসব কাজ করছেন নয়তো তাঁরা ছোট ছোট ছাত্র-ছাত্রীদের ব্রেন ওয়াশ করে তাদেরকে দিয়ে করাচ্ছেন। প্রাইভেট টিউটর সংগঠনের আর এক সদস্য কুমারেশ নন্দী বলেন, কিছু স্কুলশিক্ষক  টিউশনির নামে সিন্ডিকেট ব্যবসা চালাচ্ছেন। স্কুল থেকে বেতন নিচ্ছেন আবার টিউশনিও পড়াচ্ছেন। কিন্তু সরকারি নির্দেশিকার পর তাঁদের অসুবিধা হচ্ছে। তার ওপর আমরা আন্দোলন করায় আমাদেরকেও মেরে ফেলে আন্দোলন থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

Loading