সোমালিয়া সংবাদ, খানাকুল: ডিভিসির ছাড়া জলে ভেঙে পড়ল খানাকুলে মুন্ডেশ্বরী নদীর ওপর একটি কাঠের স্থায়ী সেতু। এছাড়াও তিনটি বাঁশের তৈরি সেতু ভেসে গেছে। ফলে খানাকুলের বেশিরভাগ এলাকাই অন্যান্য এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। চরম সমস্যায় পড়েছেন নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষজন। উল্লেখ্য, মুণ্ডেশ্বরী, দামোদর, দ্বারকেশ্বর, রূপনারায়ণ ইত্যাদি নদী দিয়ে ঘেরা খানাকুলে যোগাযোগের জন্য কয়েকটি স্থায়ী সেতুর সঙ্গে রয়েছে অসংখ্য বাঁশের তৈরি অস্থায়ী সেতু। প্রতিবছরই বর্ষার সময় জল বেড়ে গেলে অস্থায়ী বাঁশের সেতুগুলি হয় তুলে নেওয়া হয়, নয়তো জলের স্রোতে ভেসে যায়। কিন্তু খানাকুলের নতিবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের হরিশ্চকে অবস্থিত সাজুর ঘাটে কাঠের তৈরি এই স্থায়ী সেতু প্রতিদিন কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ ব্যবহার করেন। শুধু খানাকুলের মধ্যেকার গ্রামগুলোতেই নয়, এই সেতু দিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুর ও হাওড়ার বিভিন্ন এলাকাতেও মানুষজন যাতায়াত করে থাকেন। কিন্তু ডিভিসির ছাড়া জলে শুক্রবার রাত থেকে হঠাৎ মুণ্ডেশ্বরী নদীর জলস্তর বেড়ে যায়। এরফলে সাজুর ঘাটের কাঠের সেতুর একাংশ ভেঙে পড়ে। মাঝের একটা অংশ নিচের দিকে বসে গেছে। ফলে সকাল থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ সেতু দিয়ে যাতায়াত বন্ধ হয়ে হয়ে গেছে। ফলে চরম সমস্যায় পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। কারণ এই সেতুর উপর দিয়েই একদিকে দৌলতচক, বলপাই, খুনিয়াচক, অন্যদিকে মাড়োখানা, সাবলসিংহপুর, বাঁকানগর প্রভৃতি এলাকার মানুষজন যাতায়াত করে থাকেন। এছাড়াও দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষজন তো রয়েছেনই। তবে শুধু এই সেতুটিই নয়, এদিন রাত থেকে আরও তিনটে বাঁশের সেতুও ভেসে গেছে। সেগুলি হল হায়াতপুর থেকে পার হরিশ্চক, কেদারপুর থেকে কাবিলপুর এবং নতিবপুর থেকে বালিগোড়ি। ফলে খানাকুলের একটা বড় অংশের মানুষজনের যাতায়াতের এখন প্রধান ভরসা নৌকা। এ বিষয়ে স্থানীয় হরিশ্চক গ্রামের বাসিন্দা শেখ সফিউদ্দিন বলেন, হঠাৎ জল ছাড়ার ফলে এই বিপর্যয়। চাষবাস সব নষ্ট হয়েতে বসেছে। তারপর সেতুগুলিও ভেঙে পড়ায় সাধারণ মানুষের আর দুর্দশার শেষ রইল না।
![]()

More Stories
ফুরফুরা পঞ্চায়েতে জট কাটল, ৫ বিজয়ীকে শংসাপত্র দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের
সহযোদ্ধার বিদায়, নিভে গেল এক নীরব শক্তির প্রদীপ—প্রয়াত গোঘাটের মনোরঞ্জন পালের স্ত্রী শোভা পাল
ভুলতে বসা সুরের মানুষ— শেষ গান ‘ওগো বন্ধু বিদায়’ আজও ভাসায় চোখের জল”