সোমালিয়া সংবাদ, আরামবাগ: ডাকাতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নাকা চেকিং-এর সময় পুলিশের হাতে ধরা পড়ে গেল চার ডাকাত। সেই সঙ্গে উদ্ধার হল প্রায় ২২ কেজি সোনার গহনা। জানা গেছে, ওই ডাকাতের দলটি ডানকুনির একটি জুয়েলারি দোকানে দুপুরে ডাকাতি করে। তারপর ভদ্রেশ্বর থানা এলাকায় বাইক ফেলে রেখে বাসে করে আরামবাগের উপর দিয়ে বিষ্ণুপুর রওনা দিয়েছিল। এদিকে ডাকাতির ঘটনার পরেই বিভিন্ন থানায় পুলিশের নাকা চেকিং শুরু হয়েছিল। এদিকে বাস চলাকালীনই বাসের কন্ডাক্টরের সন্দেহ হয়। পরে বাসের মধ্যে দুষ্কৃতীদের একজন এক মহিলার হার ছিনতাই করার চেষ্টা করে। তখন ওই মহিলা চিৎকার শুরু করলে ওই দুষ্কৃতীরা বাস থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করে। তখনই বাসের কন্ডাক্টার দরজা বন্ধ করে দিয়ে তাদেরকে বাধা দেয়। যদিও তার আগেই কয়েকজন ছুটে পড়ে। এরপর এলাকার ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে চারজনকে পাকড়াও করে। তাদেরকে মারধর করে স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির অফিসে রাখা হয়। গোঘাট থানার ওসি শৈলেন্দ্রনাথ উপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পুলিশ তল্লাশি চালাতেই তাদের কাছ থেকেই বেরিয়ে আসে ব্যাগ ভর্তি সোনার গহনা, বেশ কিছু নগদ টাকা, একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং চার রাউন্ড গুলি। তখনই ডানকুনি থানা থেকে পাঠানো ছবি থেকে পরিষ্কার হয়ে যায় ওই ডাকাত দলই দুপুরে ডানকুনিতে জুয়েলারি দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছিল। এরপর পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।

অন্যদিকে এদিন রাতেই দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটলো খানাকুলের মাড়োখানা গ্রাম পঞ্চায়েতের সুন্দরপুর গ্রামের প্রশান্ত মন্ডলের বাড়িতে। মই দিয়ে দোতলায় উঠে দরজা ভেঙে চারজন ডাকাত ভিতরে ঢোকে। বাইরে আরও কয়েকজন পাহাড়ায় ছিল। এরপর তারা গৃহকর্তা প্রশান্ত মন্ডলের হাত-পা বেঁধে ফেলে। মারধর করে তাঁর স্ত্রীর সন্ধ্যা মন্ডলকে। প্রশান্তবাবুর তিন ছেলেই বাইরে থাকেন। কিন্তু নাতি-নাতনিরা ওখানেই ছিল। ওই ডাকাত দল নাতনির গলায় ছুরি বসিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এরপর তারা লুটপাট চালিয়ে প্রায় ১২০০ গ্রাম সোনার গহনা ও ছ’লক্ষ নগদ টাকা নিয়ে পালায়। এলাকাটি হাওড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুর সীমান্তবর্তী হওয়ায় স্থানীয়দের অনুমান নদী পার হয়ে তারা হয়তো চম্পট দিয়েছে।
![]()

More Stories
ফুরফুরা পঞ্চায়েতে জট কাটল, ৫ বিজয়ীকে শংসাপত্র দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের
সহযোদ্ধার বিদায়, নিভে গেল এক নীরব শক্তির প্রদীপ—প্রয়াত গোঘাটের মনোরঞ্জন পালের স্ত্রী শোভা পাল
ভুলতে বসা সুরের মানুষ— শেষ গান ‘ওগো বন্ধু বিদায়’ আজও ভাসায় চোখের জল”