সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ শুশনি শাক বাংলার গ্রামাঞ্চলে বহুদিন ধরে খাওয়া হয়ে আসা একটি দেশি শাক। সাধারণত স্যাঁতসেঁতে জমি, পুকুরপাড়, খাল-বিলের ধারে কিংবা অল্প জলযুক্ত জায়গায় এটি স্বাভাবিকভাবে জন্মায়। আগেকার দিনে বাড়ির মা ঠাকুমারা জমি ও পুকুরপাড় থেকে এই শাক সংগ্রহ করতেন।
শুশনি শাক বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাদ্যতালিকার একটি অংশ। সাধারণত কচি পাতা ও ডাঁটা রান্না করে খাওয়া হয়। কেউ কেউ শাকটি ভাজি, চচ্চড়ি বা অন্যান্য শাকসবজির সঙ্গে মিশিয়ে রান্না করেন।
দেশজ চিকিৎসা ও লোকাচারে শুশনি শাককে নানা উপকারের সঙ্গে যুক্ত করা হয়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখতে ও চিন্তা মুক্ত ভালো ঘুম হতে সাহায্য করে। বিশেষ করে এটি শীতল প্রকৃতির শাক হিসেবে পরিচিত। শুশনি শাকের পুষ্টিগুণ-
ভিটামিন A-এর উৎস — চোখ ও ত্বকের স্বাভাবিক স্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন C — অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সহায়তা করে। ফোলেট (ভিটামিন B9) — কোষ বিভাজন ও রক্ত তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ।
ক্যালসিয়াম — হাড় ও দাঁতের স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয়। আয়রন — হিমোগ্লোবিন তৈরিতে ভূমিকা রাখে।পটাশিয়াম — শরীরের তরল ভারসাম্য ও স্বাভাবিক পেশি-স্নায়ুর কাজে গুরুত্বপূর্ণ।
ম্যাগনেশিয়াম — পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়ক। খাদ্যআঁশ — হজম ও অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ — উদ্ভিদজাত বিভিন্ন যৌগ শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
বর্তমানে এই শাক চাষ করা হচ্ছে, ব্যবসায়ী ভিত্তিতে চাষ করছেন অনেকেই। বাজারের চাহিদা ও গুণমানের জন্য বাজারে দোকানে হিমশিম খাচ্ছে চাষিরা। গোঘাটের মদিনার হাটে এসেছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা টাউন এর এক শুশনি শাক চাষী এবং বিক্রেতা প্রদীপ দাস জানান একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—এটি আর্দ্র ও জলধারণক্ষম মাটিতে ভালো জন্মাতে পারে। ফলে যেসব জমিতে অন্য সবজি চাষে সমস্যা হয়, সেসব নিচু বা স্যাঁতসেঁতে জমি কাজে লাগানোর সম্ভাবনা রয়েছে। ধান বপনের মত বীজতলা তৈরি করে তবেই এই শাক বহন করতে হয়। নিয়মিত জলসেচ প্রয়োজন হয়। একবার বহন করলে ছয় মাস পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। বপনের একুশ দিনের পর থেকেই ফলন শুরু হয়ে যায়। এর বীজ খড়গপুর থেকে আনতে হয় সেখানে চাষ বেশি হয় সেখান থেকেই তিনি ট্রেনিং নিয়েছেন। এই চাষ যদি কেউ শিখতে চায় তিনি জানিয়েছেন সময় পেলে তিনি শেখাবেন।
বাজারে দেশি শাক হিসেবে চাহিদা থাকলে নিয়মিত কেটে বিক্রি করে কৃষক আয় করতে পারেন। তবে লাভের হিসাব নির্ভর করবে জমির পরিমাণ, চাষের পদ্ধতি, শ্রমের খরচ এবং স্থানীয় বাজারদরের ওপর।
তবে বিশেষজ্ঞ করে জানাচ্ছেন শুশনি শাক সংগ্রহ বা চাষের সময় দূষিত নালা, নর্দমা বা রাসায়নিক দূষণযুক্ত জলাশয় থেকে শাক সংগ্রহ করা উচিত নয়। জলজ বা জলাভূমির শাক হওয়ায় দূষিত পরিবেশের ক্ষতিকর পদার্থ এতে জমতে পারে।

![]()

More Stories
প্রণাম কাকে বলে? প্রণামের প্রকারভেদ, বিধি ও শাস্ত্রসম্মত নিয়ম
কর্নাটকে ৭ হাজারের বেশি তরুণ তরুণী HIV-আক্রান্ত—ভারতের যুবসমাজের সামনে এক নীরব স্বাস্থ্য সংকট
বর্তমান সময়ে অনেক কিশোর-কিশোরীর বিপথে যাওয়ার অন্যতম বড় কারণ হলো অল্প বয়সেই “পার্সোনাল রুম” সংস্কৃতি !